পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই মার্কিন বিদেশ সচিব Marco Rubio র সস্ত্রীক ভারত সফর, আর সেই সফরের সূচনা কলকাতা থেকে ঘটনাটা নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য বলেই দেখার সুযোগ খুব কম।
মাদার হাউস, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, বিনিয়োগ আলোচনা সবকিছুর আড়ালে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভূ-রাজনীতির হিসেব কতটা কাজ করছে, সেটাই এখন ভাবার বিষয়।
গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ করেই খ্রিস্টান মিশনারি কার্যকলাপের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, এবং বাংলাদেশি ও জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন তুলেছে।
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল কিংবা মালদ্বীপ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশে বিদেশি প্রভাব ও রাজনৈতিক ইসলামকে ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ বহুবার উঠেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গকেও দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত পরীক্ষাগারের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা চলছিল।
তৃণমূল সরকারের আমলে সীমান্ত পরিস্থিতি কেন এতটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছিল, কেন পশ্চিমবঙ্গের বহু এলাকায় হিন্দুরা নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করতেন, কেন বারবার জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের পশ্চিমবঙ্গে ধরা পড়ছে এসব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু আজও স্পষ্ট নয়।
ভারত সরকারের SIR অভিযান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, NSA অজিত ডোভালের ঘনঘন পশ্চিমবঙ্গ সফর সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কতোটা গভীর ভালোভাবে বুঝতে পারছি।
আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, আন্তর্জাতিক কিছু শক্তি এবং তথাকথিত “ডিপ স্টেট” পশ্চিমবঙ্গকে একটি দুর্বল ও বিভক্ত অঞ্চলে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কাজ করছিল। তারা চাইছিল পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি সরকার টিকে থাকুক, যারা সীমান্ত, অনুপ্রবেশ ও মৌলবাদ নিয়ে কঠোর অবস্থান নেবে না, এর আড়ালে ডিপ স্টেট তার কাজ কোনো বাধাবিপত্তি ছাড়াই চালিয়ে যেতে পারতো।
সরকার পরিবর্তন না হলে কি হতো? পশ্চিমবঙ্গ যদি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির প্রভাবের মধ্যে চলে যেত... তাহলে ভবিষ্যতে এই রাজ্য দেশবিরোধী কার্যকলাপের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারত।
আজকের রাজনৈতিক পরিবর্তন সেই কারণেই শুধু সরকার বদল নয়, বহু মানুষের কাছে এটা পশ্চিমবঙ্গের নতুন জীবন ফিরে পাওয়া।
এবার আপনারা'ই ভেবে দেখুন আসলেই ডিপ স্টেটের এজেন্ট কারা, কারা টাকার ও ক্ষমতার লোভে বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলো।

